দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে কর্মসূচিতে যাচ্ছে বিএনপি

রাজনীতি

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও মূল্য হ্রাসের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে আগামী সপ্তাহে দেশব্যাপী মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ, হাট সভা ও হ্যান্ডবিল বিতরণে কর্মসূচি ঘোষণা করবে বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে বুধবার দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিবৃতিতে জানানো হয়।

বৈঠকে বলা হয় যে, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি হওয়ায় জনগণের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। অথচ সরকার নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। ভোটারবিহীন সরকারের জনগণের কাছে কোনও দায়বদ্ধতা না থাকায় চাল, ডাল, তেল, সবজি এবং অন্যদিকে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষ বিশেষ করে কৃষক, শ্রমিক মেহনতী মানুষের প্রকৃত আয় মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। কিছু মানুষ সরকারের মদদপুষ্ট হয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ করে। এর ফলে গ্যাস, পানি ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে যাতায়াত ব্যয়, পরিবহণ ব্যয়, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।

‘ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা বেতনে কয়েক দফা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে দুর্নীতির যাবতীয় সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। দফায় দফায় গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করে সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে ফেলেছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও মূল্য হ্রাসের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে আগামী সপ্তাহে দেশব্যাপী মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ, হাট সভা ও হ্যান্ডবিল বিতরণে কর্মসূচি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনগুলোর শান্তিপূর্ণ প্রভাতফেরী ও শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিনা উষ্কানিতে হামলা ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের আহত করার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। তারা বলেন, এই ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মধ্যদিয়ে এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ একুশের চেতনাকে সুপরিকল্পিতভাবে ভূলণ্ঠিত করছে এবং তাদের ফ্যসিবাদি চরিত্রের বহি:প্রকাশ ঘটছে।

পাশাপাশি বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে এ সব মামলা প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানানো হয় বৈঠকে।

বৈঠকে আগামী মার্চ মাসে মহান স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে সারা মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি প্রণয়নের জন্য স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশনের বরখাস্তকৃত উপ-সহকারী পরিচালক শরিফ উদ্দিনের চাকরী থেকে বরখাস্তকরণে বিষ্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বলেন, একজন সৎ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার মাধ্যমে এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে- দুর্নীতি দমন কমিশনের সব কর্মকর্তার নিজেরাই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে এবং বিরোধী দল দমনে সরকারের হাতিয়ার হিসাবে কাজ করছে। শরিফ উদ্দিন কক্সবাজারে দুর্নীতিতে জড়িত রাজনীতিক ও সরকারী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়ার কারণেই তাকে বরখাস্ত হতে হয়েছে। বিএনপি অবিলম্বে এই বিষয়টার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছে।

নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় নিয়ে আসার কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং শরিফ উদ্দিনকে পুনরায় কাজে বহাল করারও দাবি জানানো হয় বৈঠকে।

গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় এই ভার্চুয়াল বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিষ্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান,ন জরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।