বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বেড়েছে

অর্থ ও বাণিজ্য

মহামারি করোনার প্রভাব কাটিয়ে চাঙা হচ্ছে দেশের অর্থনী‌তি। সবকিছু করোনাকালীন সময়ের আগের অবস্থায় ফিরে আসার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ফলে গতি ফিরছে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার দেশে অভ্যন্তরীণ ঋণপ্রবাহের যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, ডিসেম্বর মাসে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি নভেম্বরের চেয়ে শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে ১০ দশমিক ৬৯ শতাংশে উঠেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২১ সালের ডিসেম্বর শেষে বেসরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের স্থি‌তির পরিমাণ দাঁড়ায় ১২ লাখ ৬৩ হাজার ২৪৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বেসরকারি খাতের ঋণ ছিল ১১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৫৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা। অর্থাৎ ২০২০ সালের ডিসেম্বরের চেয়ে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে এক লাখ ২১ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা বা ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেশি ঋণ পেয়েছেন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলেন, বেশি পরিমাণে আমদানি বৃদ্ধি, বিশেষ করে মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি বাড়ার ফলে বেসরকারি খাতের ঋণ বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক গত জুলাই মাসে মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছিল, তাতে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয় ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, ডিসেম্বর শেষে উদ্যোক্তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যের চেয়ে এখনও প্রায় ৪ শতাংশ ঋণ কম পেয়েছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কোভিডের কারণে গত মে মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি খুবই কম ছিল। সে সময়ে ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশে ঋণের প্রবৃদ্ধি নেমেছিল। এরপর থেকে তা ধারাবাহিকভাবে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ছে।

এর আগে ২০২১ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৫১ ও ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এপ্রিলে নেমে আসে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে। মে মাসে তা আরও কমে নেমে যায় ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশে। তবে করোনার প্রকোপ কমতে থাকায় জুনে ঋণ প্রবৃদ্ধি খানিকটা বেড়ে ৮ দশমিক ৩৫ শতাংশে উঠে কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়। তারপর থেকে ঋণপ্রবাহ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। জুলাই ও আগস্টে এই সূচক ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৩৮ ও ৮ দশমিক ৪২ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) ৩ হাজার ১৬৬ কোটি ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হয়েছে। এই অংক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের এ পাঁচ মাসে আমদানি হয়েছিল ২ হাজার ২৪ কোটি ডলারের পণ্য।

এছাড়া জুলাই-নভেম্বর সময়ে ইপিজেডসহ অন্যরা বিভিন্ন ধরনের পণ্য রফতানি করে এক হাজার ৮৬৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২২ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি।