সাভারে টিকা কেন্দ্রে ভিড়, ধাক্কাধাক্কিতে আহত ১২

সারাবাংলা

করোনাভাইরাসের প্রথম ডোজের টিকা বন্ধের ঘোষণার পর সাভারে টিকা প্রত্যাশীদের ভিড় বেড়েছে। বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) টিকা কেন্দ্রে ধাক্কাধাক্কিতে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে। টিকা প্রত্যাশীদের বেশিরভাগই পোশাক শ্রমিক।

নির্ধারিত সময় সকাল ৮টা থেকে সাভারের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্ট (বিআইএইচএম) কেন্দ্রে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। টিকা প্রত্যাশীদের অভিযোগ, ভোর থেকে টিকা কেন্দ্রের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ান তারা। কিন্তু দুপুর গড়িয়ে গেলেও ভিড়ের কারণে তারা টিকা নিতে পারেননি। এতে গরম ও হুড়োহুড়িতে অনেকে আহত হয়েছেন। শৃঙ্খলা না থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ভোর ৬টায় এসে লাইনে দাঁড়ানো আশুলিয়ার ডেকো গার্মেন্টসের শ্রমিক ঈসমাইল হোসেনের সঙ্গে কথা হয় বেলা ১২টার দিকে। তখনও লাইনে অপেক্ষমাণ তিনি। ঈসমাইল বলেন, কখন দিতে পারবো এর নিশ্চয়তা নেই। হুড়োহুড়ি আর গরমে অনেকে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

সকাল থেকে টিকা কেন্দ্রের মাইকে কয়েকটি শিশু হারিয়ে যাওয়ার খবর ঘোষণা দিতে দেখা গেছে। দায়িত্ব পালনের সময় মোবাইল হারিয়েছেন বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ সদস্য।

টিকা কেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সোহাগ মিয়া বলেন, ‘ভাই আজও ৩-৪ জনকে আমি উদ্ধার করে পানি কিনে খাইয়েছি। নিজে ভিড় ঠেলে বাইরে নিয়ে রিকশায় তুলে দিয়েছি।’

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সায়েমুল হুদা বলেন, ‘সক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ এখানে টিকা নিতে এসেছেন। এখনকার পরিস্থিতি মোকাবিলা আমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। ভিড়ে কিছু কিছু লোক আহত হয়েছেন। তাদের কেউ কেউ হাসপাতালে ভর্তিও আছেন। সংখ্যাটা স্বাস্থ্যকর্মীসহ ১০-১২ জন হবে।’

তিনি বলেন, ‘সাভারের চাহিদা অনুযায়ী ২৬ ফেব্রুয়ারির পরও টিকার প্রথম ডোজ দেয়া অব্যাহত থাকবে। তাই সবাইকে অনুরোধ, উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। ২৬ ফেব্রুয়ারির পরও কেন্দ্রে নিয়মিত প্রথম ডোজ টিকা দেয়া হবে।’

সাভারে এ পর্যন্ত ৭০ হাজার শিক্ষার্থীসহ ১২ লাখ ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) এ কেন্দ্রে ১৮ হাজার লোককে টিকা দেয়া হয়েছে। এ দিনও বিশৃঙখলার মধ্যে ধাক্কাধাক্কিতে তিনজন স্বাস্থ্যকর্মী ও বেশ কয়েকজন টিকা প্রত্যাশী আহত হয়।