ইউক্রেন-রাশিয়া আলোচনায় ‘ইতিবাচক’ অগ্রগতি হয়েছে: পুতিন

Slider সারাবিশ্ব

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন চলছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এবারই প্রথম ইউরোপের প্রথম দেশ হিসাবে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী স্থল, আকাশ এবং সমুদ্রপথে ইউক্রেনে সবচেয়ে বড় এই হামলা শুরু করে। ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনা অভিযানের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটি থেকে বিভিন্ন দেশে পালিয়ে গেছে ২৫ লাখের বেশি মানুষ। তবে সম্প্রতি সামরিক আগ্রাসন শুরুর পর রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে প্রথমবারের মতো মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই লাভরভ ও ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বক্তব্য অনুসারে রুশ ও ইউক্রেনীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যকার আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। শুক্রবার (১১ মার্চ) বিবিসির এক অনলাইন প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। মস্কোতে রাশিয়ার মিত্র দেশ বেলারুসের নেতা আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে বৈঠকে পুতিন বলেছেন, ‘আমাদের পক্ষের আলোচনাকারীরা আমাকে জানিয়েছেন যে কয়েকটি ইতিবাচক পরিবর্তনের বিষয়ে কথা হয়েছে।’

তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত আলোচনায় করবেন বলে টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে বলেছেন তিনি।

এখন পর্যন্ত দুই দেশের সীমান্তে দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যে তিন দফায় বৈঠক হয়েছে– এবং বৃহস্পতিবার দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তুরস্কে বৈঠক করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত এই আলোচনায় কোনো সুনির্দিষ্ট ফলাফল পাওয়া যায়নি। এসময় রাশিয়ার ওপর আরোপ করা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা দেশের জন্য ইতিবাচক হতে পারে– এমন মন্তব্যও করেন পুতিন।পুতিন বলেছেন, ‘এরকম সময়ে সুযোগ পাওয়া যায় অর্থনীতি শক্তিশালী করা ও প্রযুক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার।’

উল্লেখ্য,রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের গত বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই দেশটিতে হামলা শুরু করে রুশ সৈন্যরা। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা ছাড়াও দেশের অন্যান্য স্থান থেকে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর আগে ইউক্রেনের ডনবাস প্রদেশে সেনা অভিযানের ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বিবিসির খবরে বলা হয়, টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে ‘সেনা অভিযান’ পরিচালনার ঘোষণা দেন পুতিন।