চীনে ফের লকডাউন, ভারতে অ্যাপল সহ বহু স্মার্টফোনের উৎপাদন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা

Slider right তথ্য-প্রযুক্তি

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা অতিমারীর প্রভাবে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে বিশ্বের আর্থসামাজিক পরিস্থিতি। তবে বিগত কিছুদিন ধরে বিশ্ববাসীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছিলেন এই ভেবে যে অতিমারী শেষ হয়ে গিয়েছে এবং তার ফলে জীবনযাত্রাও ধীরে ধীরে আবার স্বাভাবিকের দিকে এগোচ্ছিল কিন্তু সম্প্রতি চীন আবার নতুন কোভিড-১৯ কেস দেখা যাচ্ছে। ভারতের প্রতিবেশী দেশটি তাদের ৯০ লক্ষ বাসিন্দার শহর চাংচুনে, নতুন করে লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে। আর তাই সরকারী আদেশ মেনে, অ্যাপল (Apple)-এর যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী সংস্থা ফক্সকন (Foxconn) ক্রমবর্ধমান কোভিড-১৯ সংক্রমনের কারণে তাদের শেনজেন প্ল্যান্টের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। আর এর ফলে iPhone উৎপাদন সমস্যার মুখে পড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

লকডাউনে বন্ধ হল Apple iPhone-এর যন্ত্রাংশ নির্মাতা Foxconn-এর শেনজেন শহরের প্ল্যান্ট
তাইওয়ানের কোম্পানিটি একটি অফিসিয়াল বিবৃতিতে জানিয়েছে, সরকারের নতুন কোভিড-১৯ নীতি মেনে চলার জন্য ১৪ মার্চ থেকে চীনের শেনজেনে ফক্সকনের যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। সংস্থা এই স্থগিতকরণের সময়কাল নির্দিষ্ট করেনি, তবে তারা সরকারী নির্দেশিকা অনুসরণ করবে বলেই মনে হয়।

চীনা সরকার ২০ মার্চ পর্যন্ত শেনজেনে অপ্রয়োজনীয় ব্যবসা স্থগিত করেছে। ফক্সকনের চীনা সদর দপ্তরটি শেনজেনে অবস্থিত এবং গুয়ানলানে এর প্রধান উৎপাদন সাইটটি রয়েছে। আইফোন-নির্মাতা উভয় প্ল্যান্টের কাজ স্থগিত করেছে এবং বিকল্প হিসাবে বিঘ্ন মেটানোর জন্য তাদের অন্য সাইটগুলিতে উৎপাদন পুনঃনির্ধারিত করেছে। যদিও নিষেধাজ্ঞাগুলি বর্তমানে শেনজেনের শহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তবে বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন যে, লকডাউনটি যদি ২০ মার্চের পরে আরও বাড়ানো হয় তবে এটি দেশে আইফোন উৎপাদনকে প্রভাবিত করতে পারে।

চীনের লকডাউন ভারতের iPhone উৎপাদনে ফেলতে পারে প্রভাব
ভারত আইফোনের স্থানীয় উৎপাদনের জন্য শেনজেন থেকে আসা উপাদানগুলির উপর অত্যন্ত নির্ভর করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কোভিড-১৯ সংক্রমনের জন্য বিধিনিষেধ ২০ মার্চের পরেও বাড়ানো হয়, তাহলে ভারতে চলতি বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে আইফোনের উৎপাদন প্রায় বন্ধই থাকবে আর দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ধীরগতিতে উৎপাদন শুরু হতে পারে।

ইন্ডিয়া টুডে টেক-এর একটি সাক্ষাৎকারে, কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের গবেষণা পরিচালক/টেলিকম বিশ্লেষক তরুণ পাঠক বলেছেন যে, বর্তমানে পরিস্থিতি উন্নত হচ্ছে, তবে শেনজেন থেকে আসা উপাদানগুলির উপর ভারতের নির্ভরযোগ্যতা এখনও রয়েছে৷ যদি চীনের লকডাউন ২০ মার্চের পরেও প্রসারিত হয়, তাহলে এবছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে আইফোনের উৎপাদন বন্ধই থাকবে আর দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক থেকে ধীরে ধীরে উৎপাদন শুরু হতে পারে। ভারতের অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং সার্ভিসের (ইএমএস) মতো ফক্সকনও, চীন থেকে সোর্সিং উপাদানগুলির উপর নির্ভর করে। তাই, লকডাউন স্থানীয় উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। আবার আইডিসি (IDC)-এর রিসার্চ ডিরেক্টর নবকেন্দর সিং বলেছেন যে, শুধুমাত্র আইফোন নয়, শেনজেনের লকডাউন ২- ৩ সপ্তাহের বেশি হলেই, তার প্রভাব দেখা যাবে সামগ্রিক স্মার্টফোনের বাজারেও।

অন্যদিকে, সাইবারমিডিয়া রিসার্চের ইন্ডাস্ট্রি ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের প্রধান প্রভু রাম মনে করেন যে, চীনের টেক হাব, শেনজেনে সপ্তাহব্যাপী কারখানা বন্ধ হওয়া সম্ভবত বিশ্বের সেই সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে যেখানে সরবরাহ চেইনগুলি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। তবে, ফক্সকনের প্রোডাকশন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, তার ফলে অ্যাপলের সাপ্লাই চেইনে উল্লেখযোগ্যভাবে কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলেই মত প্রভু রামের। তার কারণ হিসেবে তিনি যোগ করেছেন, অন্যান্য ফক্সকন হাব, যেমন জেংজউ (Zhengzhou)-এর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং এটি অ্যাপলের iPhone উৎপাদনে সম্ভাব্য ক্ষতির মোকাবিলায় সাহায্য করতে পারে।

তিনি এছাড়াও সতর্ক করেছেন যে, চীনা শহরগুলির পাশাপাশি ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো অন্যান্য এশীয় হাবগুলিতে ক্রমবর্ধমান কোভিড স্পাইকের ওপর নজর রাখতে হবে। কারণ এর ফলে ভারতের স্মার্টফোন বাজারে প্রভাব পড়তে পারে।

উল্লেখ্য, ভারতের ফক্সকন প্ল্যান্টটি চেন্নাইয়ের কাছে শ্রীপেরামবুদুরে অবস্থিত, যেখানে ১৭,০০০ কর্মী রয়েছে। বর্তমানে, iPhone 12, iPhone 11, এবং iPhone XR-এর মতো আইফোন মডেলগুলি ফক্সকনের, চেন্নাইয়ের প্ল্যান্টে অ্যাসেম্বেল করা হয়। আরেক অ্যাপল সরবরাহকারী, উইস্ট্রন (Wistron), তাদের বেঙ্গালুরু প্ল্যান্টে iPhone SE (2020) অ্যাসেম্বেল করে।