‘প্রতি মিনিটে শরণার্থী হচ্ছে ইউক্রেনের ৫৫ শিশু’

Slider right সারাবিশ্ব

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন চলছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে ইউক্রেনে ঢুকে হামলা শুরু করে রাশিয়ান সৈন্যরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এবারই প্রথম ইউরোপের প্রথম দেশ হিসাবে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী স্থল, আকাশ এবং সমুদ্রপথে ইউক্রেনে সবচেয়ে বড় এই হামলা শুরু করে। ইউক্রেনে চলমান রুশ আগ্রাসনের সর্বত্মক হামালার মুখে জীবন বাঁচাতে ইউক্রেন ছেড়েছেন দেশটির প্রায় ৩০ লাখ মানুষ। এদের প্রায় অর্ধেকেরই শিশু। যুদ্ধের কারণে ঘরছাড়া এসব শিশু পাচার, যৌন হয়রানির মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মুখপাত্র পল ডিলন জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেছেন, ইউক্রেন ছেড়ে পালানো মানুষের সংখ্যা হিসাব করলে আমরা ৩০ লাখের মাইলফলক পার হয়েছি। এদিন জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ বলেছে, ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের মধ্যে অন্তত ১৪ লাখই শিশু। এদের মধ্যে ১ লাখ ৫৭ হাজার শিশু তৃতীয় দেশের নাগরিক।

ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এলডার বলেন, ইউক্রেনে গত ২০ দিন দৈনিক গড়ে ৭০ হাজার শিশু শরণার্থী হয়েছে। যার অর্থ, প্রতি মিনিটে প্রায় ৫৫ জন এবং প্রতি সেকেন্ডে একটি শিশু শরণার্থী হয়েছে। তার মতে, গতি ও মাত্রার দিক থেকে এমন সংকট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আর দেখা যায়নি।

ইউনিসেফের এ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ-সংঘাতের কারণে ঘরছাড়া এসব শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া, সহিংসতা, যৌন হয়রানি এবং পাচারের বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের ওয়েবসাইটে এখনো ইউক্রেনীয় শরণার্থীর সংখ্যা হালনাগাদ করা হয়নি।

তাদের সবশেষ তথ্য বলছে, ইউক্রেন ছেড়ে পালানো মানুষের সংখ্যা ২৯ লাখ ৫০ হাজার। এদের মধ্যে ১৭ লাখ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ডে। সাড়ে চার লাখ ইউক্রেনীয় গেছেন রোমানিয়ায়, প্রায় সাড়ে তিন লাখ মলদোভায়, ২ লাখ ৬৫ হাজারের মতো শরণার্থী হাঙ্গেরিতে এবং দুই লাখের বেশি গেছেন স্লোভাকিয়ায়। এর বাইরে রাশিয়ায় ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি এবং বেলারুশে প্রায় দেড় হাজার ইউক্রেনীয় শরণার্থী প্রবেশ করেছেন।

উল্লেখ্য, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের গত বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই দেশটিতে হামলা শুরু করে রুশ সৈন্যরা। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা ছাড়াও দেশের অন্যান্য স্থান থেকে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর আগে ইউক্রেনের ডনবাস প্রদেশে সেনা অভিযানের ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বিবিসির খবরে বলা হয়, টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে ‘সেনা অভিযান’পরিচালনার ঘোষণা দেন পুতিন।