আফগানিস্তানে শিশুহত্যার দায়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিচার হতে হবে: চীন

সারাবিশ্ব

বুধবার জাতিসংঘের মানবাধিবার পরিষদের ৪৯তম অধিবেশনে শিশু ও সামরিক সংঘর্ষবিষয়ক এক সংলাপে জাতিসংঘে চীনা প্রতিনিধি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়াসহ পাশ্চাত্যের সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আফগানিস্তানে শিশুহত্যার দায়ে অভিযুক্ত; দেশগুলোর বিচার হওয়া উচিত।

চীনা প্রতিনিধি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ পাশ্চাত্যের সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ‘গণতন্ত্র’ ও ‘মানবাধিকার’-এর অজুহাতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করেছে এবং সেসব দেশের জনগণের ওপর অন্যায় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে। আফগানিস্তানে চাপিয়ে দেওয়া তেমনই এক অন্যায় যুদ্ধে ২০০৫ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত অন্তত ২৬ হাজার শিশু হতাহত হয়। আর ২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৬০০ জন আফগান শিশু ন্যাটোর বিমানহামলায় হতাহত হয়।

চীনা প্রতিনিধি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ার সৈন্যরা আফগানিস্তানে ভয়ঙ্কর সব অপরাধ করেছে, অথচ তাদেরকে শাস্তি দেওয়া হয়নি। এসব অপরাধীকে বিচারের আতওায় আনা জরুরি।

এদিকে আফগানিস্তানে আরেক দফায় জরুরি ত্রাণ-সামগ্রী পাঠিয়েছে চীন। বুধবার কাবুলে এক হস্তান্তর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে এসব ত্রাণ-সামগ্রী বুঝিয়ে দেওয়া হয়। আফগানিস্তানে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ওয়াং ইয়ু এবং আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এসময় উপস্থিত ছিলেন।

হস্তান্তর অনুষ্ঠানে চীনা রাষ্ট্রদূত ওয়াং বলেন, গত ডিসেম্বর মাসে চীন আফগানিস্তানের জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সরঞ্জাম ও শিক্ষা-সরঞ্জামসহ বিভিন্ন ত্রাণ-সামগ্রী পাঠায়। এবারের ত্রাণ-সামগ্রীর মধ্যে ময়দাও রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বর্তমানে কোভিড-১৯ মহামারী ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে খাদ্যশস্যের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এর মধ্যেও আফগানিস্তানের জনগণের জন্য ত্রাণ পাঠিয়েছে চীন, যা আফগান সরকার ও জনগণের সঙ্গে চীনের সরকার ও জনগণের মৈত্রীর প্রতীক। চীন ভবিষ্যতে আফগানিস্তানকে আরও ত্রাণ দেবে। তিনি বিদেশে বাজেয়াপ্ত আফগানিস্তানের সম্পদ আফগান জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও জানান।

এসময় আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ত্রাণ-সামগ্রীর জন্য চীনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, চীন আফগানিস্তানের সুপ্রতিবেশী। দীর্ঘকাল ধরেই চীন আফগানিস্তানকে আন্তরিকভাবে সাহায্য করে আসছে।
সূত্র: সিআরআই