ইউক্রেন যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি কী

Slider right সারাবিশ্ব

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের এক মাসের মাথায় রুশ সৈন্যরা একমাত্র খেরসন শহর দখল করেছে। বড় কোন শহর দখল করতে পারেনি তারা। মারিউপোল ও খারকিভ শহর দখলের জন্য রুশ বাহিনী সেখানে তাদের গোলাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে। খবর বিবিসি।

যুদ্ধের এক মাসের মাথায় এসে সংবাদদাতারা বলছেন, ইউক্রেনের সৈন্যরা কোথাও কোথাও রুশ বাহিনীর ওপর পাল্টা হামলা চালাচ্ছে এবং খবরে বলা হচ্ছে যে রাজধানী কিয়েভের কাছে কিছু এলাকায় তারা পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।

কিয়েভের পশ্চিমে মাকারিভ শহরের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই শহরে তারা আবারও ইউক্রেনের পতাকা উড়াতে সক্ষম হয়েছে।

একজন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক বিবিসিকে বলেছেন, ইউক্রেনের এই পাল্টা লড়াই-এর শক্তির কারণে রাশিয়া তার রণকৌশল পরিবর্তন করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের একজন মুখপাত্রও বলেছেন যে, দেশটির দক্ষিণের কিছু কিছু অংশে ইউক্রেনের সৈন্যরা যুদ্ধক্ষেত্রের গতি উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে।

দক্ষিণের ছোট্ট একটি শহর ভজনেসেন্সকে ইউক্রেনের সৈন্য ও স্বেচ্ছাসেবীরা রাশিয়ার সাঁজোয়া বহর ধ্বংস করে তাদেরকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে।

ক্রাইমিয়ার কাছে যে খেরসন শহরটি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সর্বপ্রথম রাশিয়ার দখলে চলে গিয়েছিল সেটি ফিরে পাওয়ার জন্য ইউক্রেনের সৈন্যরা তুমুল লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে রাশিয়ার সৈন্যরা এখন উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হচ্ছে “দেশটির পূর্বাঞ্চলে ইউক্রেনের বাহিনীকে ঘিরে ফেলার উদ্দেশ্যে।”

গত ২৪শে ফেব্রুয়ারি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পর রুশ সৈন্যরা প্রতিবেশি দেশটির ভেতরে ঢুকে পড়ে।

জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শোলৎস জার্মান পার্লামেন্ট বুন্দেসটাগে বলেছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযান চার সপ্তাহ ধরে স্থবির হয়ে আছে। যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য তিনি প্রেসিডেন্ট পুতিনের প্রতি আহবান জানান এবং বলেন যে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ভবিষ্যত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এর আগে আমিরকা এবং ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে রসদপত্রের সঙ্কটের কারণে রাশিয়ার অভিযান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।