রাশিয়ার তেলের গুদামে হামলার অভিযোগ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে

Slider right সারাবিশ্ব

দীর্ঘ সময় থেকে ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধ চলছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারির পর থেকেই রাশিয়ার হামলার প্রতিরোধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেনের সেনারা। যুদ্ধ বন্ধে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চললেও এখনও কোনো ফল মেলেনি।

সম্প্রতি রাশিয়ার বেলগরদ শহরের তেলের গুদামে ইউক্রেন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাশিয়ার বেলগরদ শহরটি ইউক্রেনের সীমান্তে অবস্থিত।এ অভিযোগ করেছেন শহরটির আঞ্চলিক গভর্নর ব্যাচেস্লাভ গ্ল্যাডকভ।

ব্যাচেস্লাভ গ্ল্যাডকভ বলেন, ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার শহরের একটি তেলের গুদামে হামলা চালিয়েছে। টেলিগ্রাম চ্যানেলে গ্ল্যাডকভ বলেন, শুক্রবার সকালে তেলের গুদামে যে আগুন লেগেছে তার কারণ হলো ইউক্রেনের দুটি হেলিকপ্টার থেকে চালানো হামলা। এ হামলায় দুজন আহত হয়েছেন। তাদের কারও অবস্থা গুরুতর নয়। তিনি আরও জানান, আশপাশ থেকে মানুষদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং দমকল কর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। এছাড়া রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম রিয়া নভোস্তি জানিয়েছে, বেলগরদ শহরে তেলের আটটি ট্যাংকে আগুন লেগেছে এবং আরও আটকি ট্যাংকে তা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। দুই দিন আগে এ অঞ্চলে অস্ত্র সংরক্ষণাগারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। ইউক্রেন এখন পর্যন্ত কোনো হামলার দায় স্বীকার করেনি।

উল্লেখ্য, পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য ২০০৮ সাল থেকে আবেদন করে ইউক্রেন। মূলত, এ নিয়েই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। তবে সম্প্রতি ন্যাটো ইউক্রেনকে পূর্ণ সদস্যপদ না দিলেও ‘সহযোগী দেশ’ হিসেবে মনোনীত করায় দ্বন্দ্বের তীব্রতা আরও বাড়ে। ন্যাটোর সদস্যপদের আবেদন প্রত্যাহারে চাপ প্রয়োগ করতে যুদ্ধ শুরুর দুই মাস আগ থেকেই ইউক্রেন সীমান্তে প্রায় দুই লাখ সেনা মোতায়েন রাখে মস্কো। কিন্তু এই কৌশল কোনো কাজে না আসায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দুই ভূখণ্ড দনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় রাশিয়া। ঠিক তার দুদিন পর ২৪ তারিখ ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে ইউক্রেনে এই হামলা শুরু করে।
সুত্র: আল- জাজিরা, গার্ডিয়ান।