অনাস্থা ভোটে হেরে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারালেন ইমরান খান

সারাবিশ্ব

একের পর এক নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটগ্রহণে হেরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন ইমরান খান।

শনিবার (৯ এপ্রিল) রাতে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) আয়াজ সাদিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে এ ভোটগ্রহণ শুরু হয় রাত বারোটা নাগাদ।

চরম উত্তেজনাময় ঐতিহাসিক অধিবেশনে ইমরানকে ক্ষমতাচ্যুত করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন ১৭৪ জন এমএনএ। পাকিস্তানের ইতিহাসে অনাস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া প্রথম প্রধানমন্ত্রী তিনি। পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ৩৪৩ জন এমএনএ-র মধ্যে ১৭২ জনের সমর্থন প্রয়োজন হয়। বিরোধীরা দাবি করে আসছিল তাদের পক্ষে ১৭৬ জন এমএনএ-র সমর্থন হয়েছে। তবে ভোট দিয়েছেন ১৭৪ জন। সবগুলো ভোট গেছে ইমরান খানের বিরুদ্ধে। ইমরানের ক্ষমতাসীন দল পিটিআই দলের আইনপ্রণেতারা অনাস্থা ভোটে অংশগ্রহণ করেননি।

পাকিস্তানের স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে অনাস্থা ভোটের ফল প্রকাশ করে অধিবেশনের চেয়ার আয়াজ সাদিক। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে শনিবার রাত ১২টার মধ্যে অনাস্থা ভোট শুরুর বাধ্যবাধকতা ছিল। কয়েক দফা অধিবেশনে বিরতির পর শনিবার রাত ১১টার স্পিকার আসাদ কায়সার পদত্যাগ করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ তিনি হতে চান না।

পদত্যাগের আগে তিনি জানান, মন্ত্রিসভা থেকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ নথি পেয়েছেন। যা পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি ও বিরোধী দলের নেতাকে দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, এটি জাতীয় দায়িত্ব ও সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত হওয়ার কারণে আমি প্যানেল চেয়ারম্যান আয়াজ সাদিককে অধিবেশন পরিচালনার আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি পদত্যাগ করার পর পিএমএল-এন- এর আয়াজ সাদিকের পরিচালনায় অনাস্থা ভোট শুরু হয়।