গাছের সাথে এ কেমন শত্রুতা

Slider right সারাবাংলা

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের এক কৃষকের ৪০ শতক জমির লাউ,চাল কুমড়া ও মিষ্টি কুমড়া গাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সবজি গাছ কেটে দেয়ায় প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় কৃষক। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে দিশেহারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি। এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী কৃষক ও তার পরিবারসহ স্থানীয়রা দুর্বৃত্তদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান।

কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের ঢাকলাপাড়া খন্দকার বাড়ি এলাকার দরিদ্র কৃষক নজির মিয়া (৫০)। সোমবার (১১ এপ্রিল) সোমবার সকালে ক্ষেতে এসে গাছগুলো হাতে নিয়ে হাউমাউ করে কান্না কাটি করতে দেখা গেছে।

জানা যায়, উপজেলার ঢাকলাপাড়া গ্রামের কৃষক নজির মিয়া ধার-দেনা করে চলতি মৌসুমে ৪০ শতক জমির মধ্যে ২০ শতক লাউ,২০ শতক চাল কুমড়া ও ২০ শতক মিষ্টি কুমড়া চাষ করেছেন। শ্রম-ঘাম ও পরিচর্যার পর গাছের ডগায় ফুল-ফল দোলছে। গাছে গাছে ফলন ধরায় লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছিলেন নজির মিয়া। প্রায় দেড় হাজার গাছের মধ্যে ফলন ধরতে শুরু করেছে মাত্র।

প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে চাষি প্রতিনিধিকে জানান। আবার অনেক ডগাতে লাউয়ের কুড়ি ও পাতায় পাতায় সবুজের সমারোহে গাছগুলো পরিপূর্ণতায় ভরে উঠেছে। সবে মাত্র চাষকৃত গাছের ফলন শুরু করেছে অনেকটি বিক্রি করার উপযুক্ত সময়েও হয়েছে। ঠিক সেই মূহূর্তে শত্রুতার জের ধরে রোববার রাতের আঁধারে চাষকৃত গাছগুলোর মূল কেটে দেয়ায় গাছগুলো মরে গেছে। স্বপ্ন যেন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।কৃষক নজির মিয়া জানান,রোববার দিনে ফসলি জমিতে ঘাস কাটতে আসে একই এলাকার আজিজ মালের ছেলে মনির মিয়া।

ঘাস কাটার ফলে গাছের ক্ষতি হওয়াতে বাঁধা প্রদান করে নজির মিয়া। তখন মনির মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন,’তুই এই জমিতে কি ভাবে ফসল করিছ তা আমি দেখে নেবো’এই ভাবেই হুমকি প্রদান করেন। এই দিন রাতে মনির মিয়া সবজি গাছগুলো কেটে দেয়। উক্ত ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন নজির মিয়া।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ বানিন রায় বলেন,ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নজির মিয়ার ঘটানাটি খুবেই দুঃখজনক।একজন কৃষককের পক্ষ মেনে নেয়ার মতো না।আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে প্রশাসনের সহযোগিতায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য সরকারি প্রণোদনা পেলে তাকে সহযোগিতা করা হবে।

উপজেলা চেয়ারম্যান আখলাক হায়দার জানান,কৃষকের সাথে এমন কাজ করা অত্যন্ত নিন্দনীয়।আমিও চাই তদন্ত সাপেক্ষে সুষ্ঠু বিচার হোক। ময়নামতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লালন হায়দারকে অবগত করুন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হালিমা খাতুনরজানান, কৃষকের সবজি ফসল কেটে দিয়েছে তা শোনেছি। লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে কাজটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছি। তবে এখনো কেউ এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেননি। তবুও এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।