পাবনায় ১১ হাজার ২৫৮ বাগানে ১৭২ কোটি লিচু

Slider right অর্থ ও বাণিজ্য

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলাতে ৩ হাজার ১শ হেক্টর জমির ১১ হাজার ২৫৮ বাগানে ৮ হাজার কৃষক লিচু আবাদ করেছে। এসব বাগানে এবার মিলবে ১৭১ কোটি ৮৬ লাখ ৪০ হাজার সুস্বাদু রসালো লিচু।

বর্তমানে লিচুর গাছ থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে পাকা লিচু। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন লিচু চাষি ও বাগান মালিকরা। কৃষক ও কৃষিবিভাগ আশা করছে, লিচু উৎপাদন চলতি বছরে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।

লিচু চাষি আর স্থানীয় কৃষিবিভাগের অনুমান, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ২৫৫ কোটি বেশি অর্থাৎ ৬০০ কোটি টাকার লিচু বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।

সোমবার (২৩ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঈশ্বরদী উপজেলার লিচুগ্রাম হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন লিচুর বাগান ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি প্রতি হাজার লিচু আকারভেদে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। লিচুর দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বছরে ৯০ শতাংশ লিচুর জমিতে বাম্পার ফলনে ৩ লাখ ১২ হাজার ৪৮০টি গাছে গড়ে সাড়ে ৫ হাজার লিচু ধরেছে। যদি পাইকারিতে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার-আড়াই হাজার টাকায় লিচু বিক্রি করা যায়, লিচু চাষি ও স্থানীয় কৃষি বিভাগের অনুমান প্রায় ৬০০ কোটি টাকার লিচু বিক্রি করা সম্ভব হবে।

ঈশ্বরদী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে আবাদ হয়েছে সুমিষ্ট লিচু। জৈষ্ঠ্যের শুরুতে মোজাফফর (দেশি) জাতের লিচু টক তবে পরিপক্ব হলে বেশ মিষ্টি বলে অল্প হয় চাষ। বোম্বাই ও চায়না-৩ জাতের লিচুর আঁটি সাধারণত আকারে ছোট, রসালো, মাংসল এবং বেশ সুগন্ধ বলে এলাকাজুড়ে এই লিচুর আবাদ ও চাষিদের সংখ্যা প্রতিবছরই বাড়ছে। মধু মাস জৈষ্ঠ্যের শুরুতে গাছে গাছে ঝুলছে লাল লিচু। এ মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত গাছে থাকবে লিচু।

চলতি বছরে উপজেলায় লিচু গাছের মুকুল আসা থেকে শুরু করে গুঁটি, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি গাছে লিচু আসা, ফল পরিপক্ব হওয়া পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় খুশি স্থানীয় লিচু চাষি ও বাগান মালিকরা।

লিচু চাষি রেজাউল করিম জানান, বাগান থেকে লিচু সংগ্রহ করা হচ্ছে। লিচু পাড়ার পর দুই ভাগ করা হয়। লিচুর আকারভেদে যেগুলো বড় সেগুলো ২ হাজার ২শ টাকা হাজার। সেগুলো ঝুড়িতে, কার্টনে দেশের অন্তত ৩০ জেলায় পাঠানো হচ্ছে। আর আকারে ছোট লিচু স্থানীয় ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের কাছে ১ হাজার ৮শ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।

ঈশ্বরদী উপজেলার (অতিরিক্ত) কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা মোতমাইন্না জানান, ঈশ্বরদী উপজেলায় ৩ লাখ ৪১ হাজার ২শ লিচু গাছ রয়েছে। শুধু এই উপজেলায় মোজাফফর (দেশি) বোম্বাই, চায়না-৩, বেদানা জাতের লিচু আবাদ করেছে কৃষকরা। এবার ১০ শতাংশ লিচু গাছে ফুল-ফল আসেনি। প্রতি ১ হেক্টর জমিতে ১১২টি লিচু গাছের ইউনিট থাকে। এছাড়াও বসতভিটা বাড়ির আঙিনা-উঠানে তো লিচুর গাছ রয়েছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, কৃষিবিদ মিতা সরকার বলেন, আবহাওয়া সম্পূর্ণ অনুকূলে থাকায় ঈশ্বরদী উপজেলার ৩ হাজার ১শ হেক্টর জমিতে তিন প্রজাতির লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। লিচুর স্বাদ মান গুনগত, লিচুর আঁটি ছোট হওয়ার কারণে বিভিন্ন জেলার মানুষের চাহিদা রয়েছে। এতে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। অন্য ফসলের চেয়ে লিচু চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে, এতে বাগানের সংখ্যাটাও বাড়ছে।