বিশ্ববাজারে সয়াবিন তেলের দাম কমেছে

Slider অর্থ ও বাণিজ্য

বিশ্ববাজারে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গত মার্চে সয়াবিনের দাম টনপ্রতি প্রায় ২ হাজার ডলারে উঠে গিয়েছিল। তবে এখন সে পরিস্থিতি বদলেছে। ধীরে হলেও কমতে শুরু করেছে সয়াবিন তেলের দাম। দুই মাসের ব্যবধানে সয়াবিনের বুকিং দর কমেছে টনপ্রতি প্রায় ২০০ ডলার।

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত ছাড়াও বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের সংকটময় পরিস্থিতিতে সয়াবিনের এ দাম কমে যাওয়ার বিষয়টিকে স্বাভাবিক বলে মনে করছেন না দেশের আমদানিকারকরা। তাদের মতে, এটি সাময়িক। এরপর বাজার আবারো অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে সয়াবিন তেলের বছরওয়ারি গড় মূল্য ছিল টনপ্রতি ৭৬৫ ডলার। ২০২০ সালে দাম ছিল ৮৩৮ ডলার এবং ২০২১ সালে অপরিশোধিত সয়াবিনের টনপ্রতি দাম ছিল ১ হাজার ৩৮৫ ডলার। কিন্তু চলতি বছরের মার্চে সয়াবিনের বুকিং দর বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তা ১ হাজার ৯৫৭ ডলারে উঠে যায়। এটি ছিল ইতিহাসে পণ্যটির সর্বোচ্চ দাম।

এপ্রিলেও দাম ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় স্থিতিশীল ছিল। সেই সময় দাম ছিল ১ হাজার ৯৪৮ ডলার। চলতি মাসে কমতে শুরু করে সয়াবিনের বুকিং দর। সর্বশেষ কার্যদিবসে অপরিশোধিত সয়াবিন লেনদেন নিম্নমুখী অবস্থায় স্থির হয়েছে ১ হাজার ৭৬০ ডলারে। অর্থাৎ দাম কমেছে ১৯৭ ডলার।

তবে বিশ্ববাজারে সয়াবিনসহ ভোজ্যতেলের দাম কমে যাওয়ার বিষয়টি মানতে রাজি নন দেশের শীর্ষস্থানীয় ভোজ্যতেল আমদানিকারক ও পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান টিকে গ্রুপের পরিচালক তারিক আহমেদ। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভোজ্যতেলের দাম এখনো অস্থিতিশীল। স্টক মার্কেটে দাম কোনোদিন কমলেও পরে আবার বেড়ে যাচ্ছে। এখনো দেশের আমদানিকারকদের ১ হাজার ৮৮০ থেকে ১ হাজার ৮৯০ ডলারে সয়াবিন কিনতে হচ্ছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হাওয়া পর্যন্ত ভোজ্যতেল কিংবা ভোগ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীলতার দিকে যাবে না বলেই মনে করেন তিনি।

এর আগে ইন্দোনেশিয়া পাম অয়েল রফতানি বন্ধের ঘোষণা দিলে বিশ্ববাজারে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়। তবে পরবর্তী সময়ে তারা আবারো রফতানি উন্মুক্ত করলে সেই সময় দাম কিছুটা কমেছিল। কিন্তু পাইকারি বাজারে এক সপ্তাহ ধরে খোলা পাম অয়েলের দাম মণপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা বেড়ে গেছে। দুদিন আগেও এসও পর্যায়ে মণপ্রতি পাম অয়েল ৫ হাজার ৮০০ টাকায় লেনদেন হয়েছিল। সর্বশেষ কার্যদিবসে তা বেড়ে ৬ হাজার ৫০০ টাকায় উঠে গেছে। তবে খোলা সয়াবিনের দাম আগের মতোই মণপ্রতি ৭ হাজার টাকায় স্থির রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দাম কমলেও ভোজ্যতেলের বাজার আদতে এখনো অস্থিতিশীল। এমনকি ইন্দোনেশিয়া পাম অয়েল রফতানি বন্ধ ঘোষণার পরও নাটকীয়ভাবে স্থিতিশীল ছিল বিশ্ববাজারে পণ্যটির দাম। ফলে ভবিষ্যতের বাজার পরিস্থিতি কেমন হবে তা এখনই বলা মুশকিল। তবে এটুকু বলা যায়, শিগগিরই ভোজ্যতেলের বাজার স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ইউক্রেন-রাশিয়া সংকটসহ বিশ্বপরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এ খাতে স্থিতিশীলতা আসবে না।

সবশেষ ৫ মে ভোজ্যতেল আমদানিকারকদের সংগঠন দেশে ভোজ্যতেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করে। ওই সময় এক লাফে বোতলজাত সয়াবিনের দাম লিটারপ্রতি ১৬০ থেকে ৩৮ টাকা বাড়িয়ে ১৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। একইভাবে খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দামও বাড়ানো হয়।

দেশের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন দামে পণ্য কিনে আমদানি করলেও মাসভিত্তিক গড় দামের সঙ্গে আমদানি খরচ হিসাব করে দেশীয় বিপণন দাম নির্ধারণ করেন। ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্যের সঙ্গে কাস্টমস ও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে ভোজ্যতেলের মাসভিত্তিক আমদানি তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। এরপর ট্যারিফ কমিশনের দেয়া প্রতিবেদন বা সুপারিশের ভিত্তিতে ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করেন। ৫ মে নতুন দাম নির্ধারণ করায় এর এক মাস শেষ হওয়ার পরই বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী নতুন দাম নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।