সেভেরোডোনেটস্ক শহর থেকে পিছু হটল ইউক্রেনীয় সেনারা

Slider right সারাবিশ্ব

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর সেভেরোডোনেটস্কে রুশ বাহিনীর অব্যাহত বোমাবর্ষণে দেশটির সেনারা পিছু হটেছে। এখন ইউক্রেনীয় সেনারা ওই শহরের প্রান্তদেশ নিয়ন্ত্রণ করছে। ইউক্রেনের আঞ্চলিক কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া তার বিশাল একটি সেনাদল ও সমরাস্ত্র ভাণ্ডারকে এ ছোট্ট পূর্বাঞ্চলীয় শহর দখল করতে নিয়োজিত করেছিল। দখলকৃত আশেপাশের প্রদেশগুলোকে সুরক্ষিত করতে এবং রুশপন্থীদের সমর্থনের জন্য রাশিয়া এসব পদক্ষেপ নিয়েছে।

এদিকে ইউক্রেন যত দিন সম্ভব সেখানে লড়াই করার সংকল্প করেছে। তাদের মতে, এ যুদ্ধটি ভবিষ্যতে বর্তমান রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের গতিপথকে বদলে দিতে সাহায্য করতে পারে।

ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক অনলাইন ভাষণে বলেছেন, ‘অনেকগুলো বিষয় বিবেচনা করলে দেখা যায় যে ওই শহরটিতে ডনবাসের ভাগ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহে বিস্ময়কর পাল্টা আক্রমণে রুশ বাহিনীকে পিছনে ঠেলে সেভেরোডোনেটস্ক শহরের অর্ধেক সুরক্ষিত করার দাবি করে ইউক্রেন। পরে এ বিষয়ে পার্শ্ববর্তী লুহানস্ক অঞ্চলের গভর্নর বলেছেন, আবারও শহরের বেশিরভাগ অংশ রাশিয়ার হাতে চলে গেছে।

বুধবার আরবিসি-ইউক্রেন মিডিয়া আউটলেটকে সের্হি হাইদাই বলেন, আমাদের সেনারা এখন শুধুমাত্র শহরের উপকণ্ঠ নিয়ন্ত্রণ করছে। কিন্তু লড়াই এখনও চলছে, আমাদের [বাহিনী] সেভেরোডোনেটস্ককে রক্ষা করার চেষ্টা করছে। তবে এটা বলা যাবে না যে রুশরা শহরটিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে।

তিনি বলেন, রাশিয়া এখন লুহানস্কের ৯৮ শতাংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করেছে। মস্কো এ অঞ্চলটি তার সমর্থপুষ্টদের জন্য দাবি করছে। তারা ২০১৪ সাল থেকে এ অঞ্চলের পূর্বাংশ দখল করে রেখেছে। এর আগে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে রুশ বাহিনী নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন সেভেরোডোনেটস্ক ও লিসিচানস্ক শহরে বোমাবর্ষণ করবে।

বুধবার ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা ওলেক্সি আরেস্টোভিচ বলেছেন, ‘ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী পিছু হটেছে। শহরের কেন্দ্রস্থল এখন জনশূন্য হয়ে পড়েছে। রুশ কামানগুলো খালি জায়গায় বোমাবর্ষণ করছে। তারা কোনো বিশেষ সাফল্য ছাড়াই কঠোর আঘাত করছে।’

অন্যদিকে রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী শোয়েগু বলেছেন, ‘ইউক্রেনের পূর্ব লুহানস্ক অঞ্চলের ৯৭ শতাংশ অঞ্চল বর্তমানে রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে। তিনি আরও দাবি করেছেন যে গত ১০ দিনের যুদ্ধে দেশটির ৫০টিরও বেশি ইউনিট বিদেশী সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পাঁচ দিনের মধ্যে ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর ১২৬ সেনা আত্মসমর্পণ করেছে। এখন আত্মসমর্পণ করা মোট ইউক্রেনীয় সেনাসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬,৪৮৯ জনে।

রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেছেন, দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়াতে ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নিয়মিত কর্যক্রমে ফিরে গেছে।

তিনি বলেন, রাশিয়া, ডনবাস ও ক্রিমিয়ার অঞ্চলগুলোর মধ্যে রেল সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এজন্য রুশ কর্তৃপক্ষ রেলপথও পুনরুদ্ধার করেছে। এছাড়া রাশিয়া থেকে ক্রিমিয়া হয়ে ডনবাস পর্যন্ত গাড়ি চলাচল উন্মুক্ত করা হয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা