বন্যা: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২০ বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা

Slider right সারাবাংলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিরনগর উপজেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়ায় ২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়। মঙ্গলবার (২১ জুন) এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

জানা গেছে, নাসিরনগর উপজেলায় গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও গত চারদিন ধরে ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি নাসিরনগরে আসা অব্যাহত রয়েছে। রোববার রাতে পাহাড়ি পানির প্রবল তোড়ে উপজেলার কুন্ডা ও গোকর্ণ ইউনিয়নের কুন্ডা-গোকর্ণ সড়কের বেড়িবাঁধ এলাকার সেতুর দুই পিলার সরে যাওয়ায় সেতু মাঝখানের অংশ দেবে গেছে। উপজেলার শ্রীঘর আশ্রয়ণ প্রকল্পে হাঁটুসমানসহ প্রকল্পের ঘরের মেঝসমান পানি চলে এসেছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পানিতে উপজেলার ২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তা, বিদ্যালয়ের আঙ্গিনা তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে উপজেলার ২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তাই ২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের ১২টি ও চাতলপাড় ইউনিয়নের ১০-১২টি বিদ্যালয়ে যেকোনো মুহূর্তে পানি ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বন্যাকবলিত হয়ে পড়ায় শ্রেণি শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা বিদ্যালয়গুলো হলো-উপজেলার আন্দ্রাবহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইটনা পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব বালিখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কান্দিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর ধানতলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রোস্তমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উড়িয়াইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইছাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গঙ্গানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বলাউক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফকিরদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টেকানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাসিরপুর পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্রীঘর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফান্দাউক ঋষিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাপরতলা পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাপরতলা পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পতৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চান্দেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গোকর্ণ পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

উড়িয়াইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিব মিয়া বলেন, বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ ৪জন শিক্ষক ও ২৩০জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয় বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়ের মাঠে হাঁটুপানি ও চারপাশে পানি। বিদ্যালয়ের বারান্দায় পানি চলে এসেছে। কেউই বিদ্যালয়ে আসতে পারছে না।

উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল আলম বলেন, পানিবন্দি হয়ে পড়ায় ২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।