ইউক্রেনের প্রথম শস্যবোঝাই জাহাজটি বন্দর ছাড়ছে: তুরস্ক

Slider right সারাবিশ্ব

মস্কো ও কিয়েভের মধ্য খাদ্যশস্য রপ্তানি নিয়ে চুক্তির পর ইউক্রেনের প্রথম শস্যবোঝাই জাহাজটি বন্দর ছাড়ছে বলে জানিয়েছে তুরস্ক। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার এ কথা জানিয়েছে। তুরস্ক জানিয়েছে, ইউক্রেনের শস্যবোঝাই প্রথম জাহাজটি কৃষ্ণ সাগর পারি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।

আমরা তাদের এ কর্মকাণ্ডে যথাসাধ্য সহযোগিতা করে যাচ্ছি। বিষয়টি যৌথভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য ইস্তানবুলে একটি কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে।

সেখান থেকে ইউক্রেনকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা করার পদক্ষেপ নিয়েছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রোববার হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, যদি ইউক্রেনের কোনো বন্দরে রাশিয়া ফের হামলা চালায় তা হলে খাদ্যশস্য চুক্তি স্থগিত করে দেওয়া হবে।

ইউক্রেনের তিন বন্দর কর্তৃপক্ষ বিবৃতিকে বলেছে, রপ্তানির জন্য তাদের বন্দরে খাদ্যশস্য বোঝাই হচ্ছে জাহাজে। বিভিন্ন স্থান থেকে শস্যবোঝাই ট্রাক ও লরি বন্দরে আসছে।

সব কিছু মিলিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন বন্দরকর্মীরা। বহু দিন পর আবার ইউক্রেনের বন্দরগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

গত শুক্রবার তুরস্কের ইস্তানবুলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে খাদ্যশস্য চুক্তি হয়। এর মাধ্যমে ইউক্রেনের বন্দরগুলোতে আটকে থাকা শস্য বিশ্ববাজারে পাঠানোর পথ খুলে।

কিন্তু চুক্তির পরের দিনই শনিবার ওডেসা বন্দরে মিসাইল হামলা করে রাশিয়া। এর পর ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এমন হুমকি দেওয়া হলো।

যদিও রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয় ওডেসা বন্দরে মজুদ করা অস্ত্রের চালানের ওপর হামলা চালিয়েছে তারা। তা ছাড়া একটি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করে দিতেও হামলা করার দাবি জানায় তারা।

প্রথমে অবশ্য রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা এ হামলার বিষয়ে কিছু জানে না। পরে এটি স্বীকার করে।

বর্তমানে ইউক্রেনে ২০ মিলিয়ন টন শস্য আটকে আছে। যার মধ্যে রয়েছে— গম, সূর্যমুখী তেল, বার্লি। ইউক্রেনে এসব শস্য আটকে থাকার কারণে বিশ্বে খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়।

দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, চলতি বছর ফসলের মৌসুম শেষে আটকে থাকা শস্যের পরিমাণ সাত কোটি ৫০ লাখ টনে দাঁড়াবে।

ইউক্রেন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম শস্য রপ্তানিকারক দেশ। বিশ্বে মোট উৎপাদিত সূর্যমুখী তেলের ৪২ শতাংশ এখানে উৎপাদন হয়। এ ছাড়া ইউক্রেনে ১৬ শতাংশ ভুট্টা ও ৯ শতাংশ গম উৎপাদন হয়।

অন্য বছর ইউক্রেন যে পরিমাণ শস্য উৎপাদন করে, তার তুলনায় এ বছর যুদ্ধের কারণে উৎপাদন কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউক্রেনে সাধারণত আট কোটি ৬০ লাখ টন শস্য উৎপাদন হয়ে থাকে। যুদ্ধের কারণে এ বছর ৩০ শতাংশ উৎপাদন কম হতে পারে।