পেলোসির সফরের পর তাইওয়ানের ওপর ‘প্রথম আঘাত’ চীনের

সারাবিশ্ব

চীন শত ‘হুমকি-ধামকি’ পাত্তা না দিয়ে তাইওয়ান সফরে গিয়েছেন মার্কিন হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। ২৪ ঘণ্টার সফর শেষে বুধবার সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে তাইওয়ান ছেড়েছেন তিনি। এরই পেলোসির এই সফরের পর তাইওয়ানের পর প্রথম আঘাতটি অর্থনৈতিকভাবেই হেনেছে চীন। বুধবার তাইওয়ান থেকে ফল ও মাছ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চীন। খবর এএফপির।

এ সময় চীন তাইওয়ান থেকে বালির চালানও স্থগিত করার ঘোষণা দেয় বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

অবশ্য ফল ও মাছ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে সরাসরি পেলোসির সফরের বিষয়টি উল্লেখ না করে চীনের কাস্টমস প্রশাসনের তরফ থেকে বুধবার জানিয়েছে, অতিরিক্ত কীটনাশক ও প্যাকেজে করোনা ভাইরাসের উপস্থিত শনাক্তের জেরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অবশ্য তাইওয়ানের বিরুদ্ধে চীনের এই ধরনের পদক্ষেপ এই প্রথম নয়। এর আগে ২০২১ সালে পোকা আছে এই অজুহাতে তাইওয়ান থেকে আনারস আমদানি নিষিদ্ধ করেছিল চীন। বেইজিংয়ের ওই পদক্ষেপকে সে সময় রাজনৈতিক বলেই মনে করা হচ্ছিল।

সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে মান লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে চীন মৎস্যজাত পণ্য, চা এবং মধুসহ তাইওয়ানের পণ্য আমদানি স্থগিত করেছে বলে তাইপের কৃষি পরিষদ মঙ্গলবার জানিয়েছে।

ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফর কেন্দ্র করে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত থেকে তাইওয়ান দ্বীপের কাছে কয়েকটি সামরিক অভিযান চালাবে তারা। এ ছাড়া দক্ষিণ চীন সাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্রে সীমান্তের কাছে বাড়ছে সাঁজোয়া গাড়ি এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম।

টুইটারে ‘ইয়িন সুরা’ নামের একটি হ্যান্ডল থেকে ভিডিও ক্লিপ পোস্ট করা হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, চীনের ফুজিয়ানের ব্যস্ত রাস্তায় সারি সারি ট্যাংক পেরিয়ে যাচ্ছে।

অন্য একটি ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, পেলোসি তাইওয়ান পৌঁছানোর দিন সন্ধ্যাতেই তাইওয়ান সীমান্তের কাছে সেনাবাহিনী নিয়ে জমায়েত করতে শুরু করেছে চীন।

পেলোসির তাইওয়ান সফর কূটনৈতিক এবং সামরিক দিয়ে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলেও মনে করা হচ্ছে। ১৯৯৭ সালের পর থেকে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শীর্যস্থানীয় রাজনৈতিক নেতা তাইওয়ান সফরে গেলেন।