‘বিষাক্ত’ ডলার ও ইউরো থেকে দূরে সরার ইঙ্গিত রাশিয়ার

Slider সারাবিশ্ব

‘বিষাক্ত’ হয়ে উঠায় বৈদেশিক বাণিজ্য ও পুঁজি বিনিয়োগ ব্যবস্থায় ডলার ও ইউরোর মতো বৈদেশিক মুদ্রা এবং সুইফটের মতো লেনদেন ব্যবস্থা থেকে রাশিয়া দূরে সরে যাচ্ছে বলে দেশটির উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সান্ডার পানকিন রুশ সংবাদমাধ্যম তাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘সমন্বিত পশ্চিমা বিশ্বের’ ভূ-রাজনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে স্থিতিশীল বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগের সম্পর্কের গ্যারান্টি নিশ্চিতের একমাত্র উপায় হলো রাশিয়া ও মিত্র দেশগুলোর ‘বিষাক্ত’ মুদ্রা ব্যবহার না করা। প্রাথমিকভাবে ডলার ও ইউরো ব্যবহারের বদলে গ্রহণযোগ্য জাতীয় মুদ্রা ব্যবহার করার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

চলতি বছরের ২৪ ফেব্র্রুয়ারি ইউক্রেন আগ্রাসন শুরুর পর রাশিয়ার ওপর একের পর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে পশ্চিমা বিশ্ব। তবে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রবল নিষেধাজ্ঞাকে পাশ কাটিয়ে মান বেড়েছে রাশিয়ার মুদ্রা রুবলের।

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগে রুবল যে অবস্থায় ছিল, এখন তার চেয়েও শক্তিশালী হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবসা ও অর্থনীতি বিষয়ক বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ বলছে, রুবল গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে।

ইউক্রেনে আক্রমণ শুরুর করার পরপরই ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্র মিলে রাশিয়ার উপর নানা ধরণের অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। এর ফলে রুবলের মান বেশ দ্রুত নিচের দিকে পড়তে থাকে।

পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, অনেকেই ভেবেছিল রাশিয়ার মুদ্রা রুবল হয়তো দ্রুত মূল্যহীন হয়ে যাবে। সংকট সামাল দিতে টানা দুই সপ্তাহ মস্কোর শেয়ার বাজার বন্ধ রাখা হয়েছিল।

কারণ শেয়ার বাজার খুললেই রুবলের দাম আরও নিচের দিকে নামতো। কিন্তু মার্চ মাসের শেষের দিক থেকে রুবল আবারও ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে।

ইউরোপ আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার অর্থনীতি ধসে পড়বে বলে যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। রুবল ঘুরে দাঁড়ানোর মূল কারণ হচ্ছে, রাশিয়ার জীবাশ্ম জ্বালানী অর্থাৎ গ্যাস ও তেল রফতানি।

রাশিয়ার কাছ থেকে ইউরোপের দেশগুলো যে গ্যাস ও তেল ক্রয় করে তার মূল্য পরিশোধ করা হতো ইউরোতে। রাশিয়ার সঙ্গে এটাই ছিল তাদের চুক্তি। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর মস্কো জানিয়েছে যে, তাদের কাছ থেকে যারা তেল গ্যাস ক্রয় করবে সেই মূল্য পরিশোধ করতে হবে রাশিয়ার মুদ্রা রুবলের মাধ্যমে। এর ফলে ইউরোকে রুবলে পরিবর্তন করা হয়।